ভালোবাসা দিবসে হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে নাসিমা বেগমের পরিবারে নেমে আসে চরম শোক।
নাসিমা বেগম ও মোহাম্মদ মিজান দম্পতির সংসার সুখেই চলছিল। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েরা বিবাহিত এবং তাদের নাতি-নাতনীদের নিয়ে ছিল আনন্দময় পরিবেশ। কিন্তু সেই শান্তি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।
ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে যান মোহাম্মদ মিজান। এসময় নাসিমা বেগম তার সাত বছর বয়সী নাতি ওমর ফারুককে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে মিজান দেখেন, ঘর রক্তাক্ত, নাসিমার নিথর দেহ পড়ে আছে, আর পাশে ছোট্ট ওমর ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে।
মিজানের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক প্রতিপক্ষ কামরুল ইসলাম শাহিন মাস্টার ও এমদাদুল হককে সন্দেহ করেন, কারণ তাদের সাথে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় এক চাঞ্চল্যকর মোড়ে। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে অবিশ্বাস্য তথ্য। নাসিমার পাশে থাকা ছোট্ট নাতি জানান, তার মামা মোহাম্মদ সিয়াম ধারালো অস্ত্র দিয়ে নানীকে আঘাত করে হত্যা করেন। পুলিশ সিয়ামকে আটক করে এবং তার গায়ে কোনো কাপড় না থাকায় সন্দেহ বাড়ে। পরে খুঁজে পাওয়া যায় একটি রক্তমাখা গেঞ্জি, যা দিয়ে হত্যার পর রক্ত মুছা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করে, সে নিজেই মাকে হত্যা করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই নির্মম ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। তারা বলেন, “সন্তান কতটা নির্মম হলে নিজের মায়ের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে! এমন ঘটনা যেন আর কোনো মায়ের সঙ্গে না ঘটে।
0 Comments